মুফতি আজিজুল হক রহ: বিরল মনীষীদের জীবনী ১
কুতবে জামান, হযরত আল্লামা মুফতি আজিজুল হক রহ. প্রতিষ্ঠাতা: আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া তিনি ১৩২৩ হি. সনে পটিয়া থানার অন্তর্গত চরকানাই গ্রামের শহর আলী মুনশী বাড়ীর এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা: মরহুম মাওলানা নূর আহমদ সাহেব। তিনি ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর রা. এর বংশধর। ১১মাস বয়সে তিনি পিতৃহারা এবং ১১বছর বয়সে মাতৃহারা হন। ১৩৩৩ হি. সনে দাদা তাঁকে জামিয়া আরবিয়া ইসলামিয়া (প্রকাশ জিরি মাদরাসা)-য় ভর্তি করিয়ে দেন। তাঁর মাঝে খোদা প্রদত্ত বিষ্ময়কর মেধা দেখে মাদরাসার শায়খুল হাদীস ও মুহতামিম নিতান্ত স্নেহ ও যত্ন সহকারে তাঁর শিক্ষা-দীক্ষার বিশেষ তত্ত্বাবধান হাতে নেন। এমনিভাবে তিনি মাদরাসার অসাধারণ মেধাবী ছাত্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ১৩৪৩ হি. সনে উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দ এবং মোজাহেরুল উলুম সাহরানপুর (ভারত) মাদরাসায় হাদীস, দর্শন, ফিক্হ্ ইত্যাদি বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা অর্জন করেন। ১৩৪৩ হি. সনে বিংশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ, হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানবী রহ. এর সাহচর্যে প্রায় নয় মাস আধ্যাত্মিকতা চর্চা করেন। দেশে প্রত্যাবর্তনের পর ১৩৪৫ থেকে ১৩৫৯ হি. সন পর্যন্ত জিরি মাদরাসায় মুফাস্সির ও মুফতি পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ইতিমধ্যে ১৩৫৭ হি. সনে পটিয়ায় জমীরিয়া কাসেমুল উলুম নামে একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। এর কিছুদিন পর জমীরিয়া কাসেমুল উলুম মাদরাসাটি আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া (ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়) নামে রূপ ধারণ করে। সে কাজে তাঁর পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন স্বীয় রূহানী শায়খ, শায়খুল মাশায়েখ, হযরত আল্লামা জমীরুদ্দীন সাহেব রহ.। তিনি আজীবন উক্ত মাদরাসা পরিচালনা করেন অত্যন্ত দক্ষতার সাথে। যুগশ্রেষ্ঠ এ সাধকপুরুষ ১৩৮০ হি. মোতাবেক ১৯৬১ ই. সনের ১৫ রমজান পরমপ্রিয়র সান্নিধ্যে চলে যান। তিনি একাধারে আধ্যাত্মিক জগতের জ্যোতিষ্মান নক্ষত্র, দক্ষ ফিকাহবিদ, আরবী, উর্দূ ও ফার্সী ভাষার সব্যসাচী সাহিত্যিক ও কবি, ইলমে দ্বীনের বটবৃক্ষ। তিনি বক্তৃতার ময়দানে ছিলেন আলোড়নসৃষ্টিকারী বক্তা, লেখালেখির ময়দানে ছিলেন সফল লেখক, পরিচালনার ক্ষেত্রে ছিলেন অভূতপূর্ব দক্ষ কারিগর। তাঁর রেখে যাওয়া শিক্ষা-দিক্ষা ও অনুসরিত পথ অবলম্বন করে, এবং তাঁর রূহানী তওয়াজ্জুহকে সম্বল করে এ দেশের মুসলিম সমাজ পেতে পারে পার্থিব বিকাশ ও মুক্তির পথ, পরকালীন শান্তির পাথেয়। তাঁর দুআ কবূলের এক অলৌকিক ঘটনা: বর্তমানের আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়া (আরবি ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়) এটি সর্বপ্রথম ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন পটিয়া সদরের অদূরে তুফান আলী মুনশী মজিদে “জমিরিয়া কাসেমুল উলূম” নামে। কিছুদিন পর পরিস্থিতি ও পরিবেশের বিবেচনাপূর্বক মাদরাসাটি স্থানান্তরিত হয় পটিয়া সদরের পূর্বে মনু মিঞা দফাদার মসজিদে। তারও কিছুদিন পর বর্তমান জামি’আর উত্তর পার্শ্বে একটি খালি দোকানঘরে নিয়ে আসা হয় মাদরাসাটি। এমন এক বিরল কায়দায় অনেকটা অলৌকিকভাবে, জামি’আ ইসলামিয়া পটিয়ার যাত্রা শুরু হয় এবং ক্রমান্নয়ে উন্নতির দিকে চলতে থাকে অবিরাম। এমনকি, একসময় এই ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানটি কালের গতি ভেদে সময়ের উজান স্রোত পাড়ি দিয়ে, সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে, পৌছে যায় উচ্চ থেকে উচ্চশিখরে, প্রতিষ্ঠানের উন্নতি ও সুনাম দেখে হিংসায় বিষিয়ে ওঠল ধর্মপ্রতারক মোল্লাদের মন। এটা ছিল তাদের জন্য জঘন্য চপেটাঘাত, ছিল ভীরু মানুষের মাথায় বজ্রের গর্জন। এ আঘাত সহ্য করতে না পেরে তারা মাদরাসার প্রতি ক্ষুব্ধ করে প্রতিবেশীদেরকে। এক পর্যায়ে তারা বিতর্ক অনুষ্ঠানের নামে দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার লোক সমবেত করে। প্রতিবেশীসহ প্রায় ১৫-২০ হাজার লোকের জমায়েত হয় এবং চতুর্দিকে মাদারসাকে ঘেরাও করে রাখে। তখন মাদারসায় ছিল বহু দ্বীনি কিতাব ও পবিত্র কালামে পাকের বৃহৎ সম্ভার। তখন ছাত্র-সংখ্যা ছিল কম। এমন এক অবস্থায় নমরুদের বজ্রকন্ঠের ন্যায় চিৎকার দিয়ে কেউ কেউ বলে উঠে ‘আগুন ধরিয়ে দাও, তাদের জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দাও’। এ রকম নমরুদী হিংস্র আদেশ পালনে পাগল হয়ে প্রজ্জ্বলিত আগুন দিয়ে দ্বীনি প্রতিষ্ঠানকে জ্বালিয়ে দিতে কারো প্রাণ সামান্যটুকুও কেঁপে উঠল না। শত শত হাদীছের কিতাব ও পবিত্র কুরআনের শব্দহীন ফরিয়াদ পাষাণদের অন্তরে বিদ্ধ হয়নি। বরং আল্লাহ্র পবিত্র কালাম, মহা-নবীর হাজার হাজার ‘হাদীছ ভষ্মিভূত হয়ে উড়ে গেল তাদের চোখের সামনেই। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, আগুনের লেলিহান অগ্নি শিখা দেখে মুফতী সাহেব রহঃ দুহাত তুলে আল্লাহ্র দরবারে দু’আ করেছিলেন, হে আল্লাহ্! এ আগুনের ধোঁয়া যেটুকু উঠেছে, তুমি আমার সন্তানবৎ প্রতিষ্ঠানকে সেটুকু উঠিয়ে দাও। বর্ণে বর্ণে কবুল হয় সে ব্যাথাভরা ফরিয়াদ। তাই আজ আমরা দেখতে পাই, অগ্নির ধোঁয়ার উচ্চতার সমপরিমাণ জামি’আর সৌধ। মহান রব্বে কারীম তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউসুল আ’লা নসীব করুন। তাঁর সকল খিদমাতকে কবূল করে নিন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত জামেয়া পটিয়াকে কবূল করুন এবং এর মাধ্যমে সারা পৃথীবিতে ইসলামের আলো প্রজ্জ্বলিত করুন। আমীন #বিরল_মনীষীদের_জীবনী #মুফতি_আজিজুল_হক_রহ: #Risalatul_Khair #Bangla_Islamic_Reminder #Bangla_Waz #Bangla_IslamicLecture #Mufti_Azizul_Haque_Rh #Life_History

পটিয়া মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মুফতি আজিজুল হক রহঃ এর লিখিত মুনাজাতের উর্দু শের আব্দুল আজীজ লক্ষীপুরী

হাজী ইউনুস আব্দুল জাব্বার রহ: বিরল মনীষীদের জীবনী ২

পটিয়া মাদ্রাসা না হওয়ার জন্য ষড়যন্ত্র করছিল তাদের কঠিন জবাব দিলেন | মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মারুফ ওয়াজ

আমাদের ব্রেইনকে পুঁজি করে অন্যরা কীভাবে লাভবান হচ্ছে? জানালেন জাকারিয়া মাসুদ |Jakariya Masud Lecture

Fazelane Jamia || Fayelane Jamia || Jamia Islamia Patiya || Fazlan Mosque

খতিবে আজম আল্লামা ছিদ্দিক আহমদ (রহ:) এর পূর্ণাঙ্গ জীবনী

মানুষ কেন তাহাজ্জুদ নামাজ থেকে বঞ্চিত হয় শুনুন #জুলফিকার আহমদ নকশবন্দী রহ:#foryou#islamicvideo#waz

Khamenei's Funeral: A Hurricane for America and Israel || Pinaki Bhattacharya || The Untold

ঢাকা ভার্সিটির প্রফেসর হুজুরের কাছে ফেল - মুফতি আজিজুল হক আল মাদানী ওয়াজ - Azizul Huq Al Madani Waz

মুহাম্মদ (সাঃ) ও এক বুড়ির দুই হাড়ি পানির ঘটনা | Muhammad's Life | ইসলামিক কাহিনী | Special History

হাটাজারি ওপটিয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মুফতি আজিজুল হক(রহঃ)জুমার রাতে তাহাজ্জুদ পরে কোথায় যেতেন?

হাটহাজারী মাদ্রাসার পরিচালকদের তালিকা| কে কে পরিচালক ছিলেন| hathazari madrashar muhtamim|

মালেক শাহ হুজুরের কাছে ধরা খেলো।আল্লামা মুফতি আজিজুল হক আল মাদানী।TazMULTIMEDIA BanglaWaz 2021

নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ মাদ্রাসায় আসলে কী হচ্ছে? পুরো ঘটনার বিশ্লেষণ | দেওভোগ মাদ্রাসার আসল ঘটনা

পটিয়া মাদ্রাসার মহাপরিচালকদের তালিকা| List of Principals of Patia Madrasa| Islam blog|

বাংলাদেশের সবাইকে নজিরবিহীন সন্মান দিলো ইরান! খামেনীর জানাজায় বাংলাদেশের অন্যরকম সংবর্ধনা!

হীরার চেয়ে দামী বয়ান! খতিবে আজম আল্লামা হাবিবুল্লাহ মিসবাহ রহঃ

পটিয়া মাদরাসার এক আল্লাহ ওয়ালার আজিব ঘটনা | Mufti Delwar Hossain New waz

বিশ্বঅলি শাহান শাহ সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী ক. সংক্ষিপ্ত জীবনী || সূফি দর্শন

